Thu. Mar 19th, 2026
পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা নিন- ঈদ মোবারক

আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের জীবনে দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আগত খুশির ঈদ। পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম বিশ্বের ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই রোজা পালনের মধ্য দিয়ে অন্যের দুঃখ-বেদনার অংশীদার হওয়ার দীক্ষা গ্রহণ করেন। তারপর শাওয়ালের ক্ষীণ দ্বিতীয়ার চাঁদ দেখে সামিল হন উৎসব আনন্দে। সেই ঈদের সার্বজনীন আনন্দ উদযাপনের প্রস্তুতিপর্ব সাধ্যমত সমাপ্তির চুড়ান্ত পর্যায়ে। আর সেই প্রস্তুতির সাথে মুসলমানদের ঘরে বাইরে বইছে ঈদের আনন্দ বার্তা। বিদায় শবে কদর, স্বাগত ঈদুল ফিতর।

আমরা জেনে আসছি, কোরআন নাজিলের মাস রমজানে, একটি ফরজÑ এক মাস রোজা রাখা; ওয়াজিবÑ ঈদের নামাজ আদায় করা ও ফিতরা প্রদান করা; পাচটি সুন্নাত-সাহরি খাওয়া, ইফতার করা, তারাবিহ আদায় করা, কোরআন তিলওয়াত করা ও ইতিকাফ করা। ইতিকাফ বলতে, ইবাদতের লক্ষ্যে ইতিকাফের নিয়তে নিজেকে মসজিদে বা নির্দিষ্ট জায়গায় আবদ্ধ রাখা। রমজানের শেষ দশকের ২০ রমজান সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়া বা ৩০ রমজান পূর্ণ হয়ে ঐদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদাহ কিফায়াহ। শবে কদরের প্রাপ্তি নিশ্চিত করে ইতিকাফ। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা মতে, আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, ‘আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে (মসজিদ) তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রূকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।

সৌহার্দ্যের, ভ্রাতৃত্বের আর সম্প্রীতির এই আনন্দধারায় সবাইকে ঈদ মোবারক। মুসলমানের সবচেয়ে বড় এই আনন্দ-উৎসব সামাজিক সম্প্রীতি আর সাম্যচেতনায় ভাস্বর। ধনী-গরিব নির্বেশেষে সবাই ঈদের আনন্দে শামিল হবে-এটাই এই ঈদের মর্মবাণী। মাসজুড়ে রোজা পালনের মাধ্যমে সংযম আর ত্যাগের শিক্ষা অর্জন এই আনন্দের জন্য প্রস্তুত করেছে প্রতিটি মুসলমানকে। ঈদ পালনে সবাই মাটির টানে, নাড়ির টানে ছুটে যাচ্ছেন স্বজনদের কাছে। তাই, চারদিকে এখন স্বজন-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মিলনের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। মহান আল্লাহর সন্তÍুষ্টি অর্জনের আশায় এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে মুসলমানরা ঈদের আনন্দে বিভোর হয়ে পড়ে। ভেদাভেদ ভুলে ধনী-গরিব সবাই এক কাতারে শামিল হয় ঈদের জামাতে। ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেয় সবাই।

কিন্তু দু:খজনক হলেও অনস্বীকার্য যে, দারিদ্র ও বঞ্চনাপ্রীড়িতদের আকাশ-পাতাল বৈষম্যের এই সমাজে ঈদ অর্থ ‘আনন্দ-উৎসব’Ñএ কথাটা বৈষম্যের যাঁতাকলে পিষ্ট বহু হতভাগ্য জীবনে কোনো অর্থ বহন করে না। মানুষে মানুষে আত্মীয়বন্ধনের মধ্যে উৎসবের যে অনবিল রূপটি প্রত্যক্ষ করা যায়, শোষক-শোষীত, শাসক-শাসিত ও দাতা-গ্রহীতার মধ্যে সেখানে উৎসবের আনন্দ নয়, বরং একদিকে ধনস্ফীত আত্মগর্ব ও অন্যদিকে দীনতার সঙ্কোচ চোখে পড়ে। এভাবেই সার্বজনীন উৎসবের আনন্দের ধারা আজ কোটি মানুষের জীবনে শুধু ক্ষীন হয়ে আসছে না; বরং ধনী-দরিদ্রের উৎকট বৈষম্যে সার্বজনীন রূপটি যুক্তিযুক্ত কারণেই হারাতে বসেছে। তবে ঈদুল ফিতরের উৎসব একদিকে যেমন আমাদের নির্মল নিস্কুলুষ আনন্দে উজ্জ্বীবিত করে; অন্যদিকে মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের চেতনায় করে অনুপ্রাণিত। বিবেকবান সকলকে ঈদ উৎসব সার্বজনীন করাকে গুরুত্ব দিয়ে, বিবেচনায় নিতে হবে যে, ‘ঈদের অর্থ খুশী আর সেই খুশী একা ভোগ করার জন্য নয়, সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার মধ্যেই নিহিত এর স্বার্থকতা’। যদিও গণতান্ত্রিক নির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই ফ্যামেলি কার্ড বিতরনসহ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। ধন্যবাদ তাকে এবং তার নেতৃত্বে- এই কার্ডও যদি বৈষম্যের কষাঘাতে পিষ্ট মানুষের সকলেই পেতেন, তাহলে ‘হতাশার ছাপ আবছা থাকলেও ঈদ সার্বজনীন উপভোগ করতে দেখা যেত। তাই, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন জরুরী এবং সেই সাথে শ্রমজীবি কর্মজীবি মানুষের শ্রমের মূল্য বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমের মূল্য প্রদানের বাধ্য-বাধকতা থাকতে হবে।

‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী-পরে সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’- এই চিরন্তন সাম্যচেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার শিক্ষা পাই ঈদ থেকে। ঈদ উপলক্ষে সাপ্তাহিক গণপ্রহরী পরিবার পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ‘সংসদ’ নেতা তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সকর মন্ত্রীবর্গ এবং সংসদ সদস্যবৃন্দসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ এবং দেশবাসীসহ গণপ্রহরীর সুপ্রিয় লেখক, পাঠক, এজেন্ট, বিজ্ঞাপণদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক । গণপ্রহরী পরিবার পক্ষে সম্পাদক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *